• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

চাঁদপুর সেতুর টোলঘর চলে যাচ্ছে দক্ষিণ পাশে

প্রকাশ:  ১০ জুন ২০২১, ১৩:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিছুটা দেরিতে হলেও 'চাঁদপুর সেতু'র টোলঘর উত্তর পাশ থেকে সেতুর দক্ষিণ পাশে স্থানান্তর হতে যাচ্ছে।


জানা যায়, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কে ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত সংযোগ সেতু হলো চাঁদপুর সেতু। সেতুটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। এ সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে সেতু দিয়ে চলাচলকারী সকল পরিবহনকে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী টোল দিতে হয়। প্রতি বছর টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয় সেতুর টোল আদায় করার জন্যে। এজন্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টাই উক্ত স্থানে উপস্থিত থাকতে হয় টোল আদায় করার জন্যে। যে বছর যে ঠিকাদার এ দায়িত্ব পান তাদের জন্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে অস্থায়ী ঘর তোলা হয়, যেটিকে টোলঘর বলা হয়। চাঁদপুর সেতুর উত্তর প্রান্তে এমন টোলঘর অবস্থিত।

 


সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সেতু এলাকাটি হয়ে উঠে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকা। সুবিধাজনক পরিবেশ হওয়ায় জেলার বেশ ক'টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশে। পাশাপাশি গড়ে উঠে বেশ ক'টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। শুধু তা-ই নয়, সাধারণ জনগণসহ স্বাবলম্বী শত শত পরিবারের বাসস্থান গড়ে উঠে সেতুর উত্তর পাশে। ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী সৌন্দর্যময় ও নান্দনিক এলাকা হিসেবে সেতুর উত্তর পাশ শহরের মানুষের কাছে অন্যতম বিনোদন এলাকায় পরিণত হয়ে যায়।

 


উক্ত সেতু এলাকায় অবসরে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস এবং সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়াকারীরা টোলের প্রশ্নে প্রায়ই বিব্রত অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ সেতুর উপর অথবা সেতু সংলগ্ন এলাকায় যেতে হলে টোলঘর পার হয়ে যেতে হলে টোল দিয়েই যেতে হয়।

 


সেতুর উত্তর পাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জেলা নির্বাচন অফিস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার অফিস রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোল আদায় করতে গেলে প্রতি মুহূর্তে যানজটের সৃষ্টি হয়। টোল দিতে হলে অবশ্যই গাড়ি থামিয়ে টোল দিতে হয়। যে কারণে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক।

 


এসব কারণে সেতুর দক্ষিণ পাশে সেতু লাগোয়া নিজ গাছতলা নামক স্থানে টোল আদায় করা হলে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না এবং সেতু সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে ও অবকাশ যাপনে আসা লোকজনকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। এ মর্মে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুরকে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন যাবৎ নানাভাবে বলে আসছে। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। এমতাবস্থায় জেলার অভিভাবক জেলা প্রশাসককে সমস্যাটি সমাধানের জন্যে অবহিত করা হয়।

 


জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বিষয়টি বিবেচনায় এনে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রায় দুমাস পূর্বে উক্ত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক সরকারি নিয়ম মোতাবেক টোল আদায়ের স্থান পরিবর্তন করার জন্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুরকে নির্দেশ দেন। টোলঘরটি সেতুর উত্তর অংশ থেকে স্থানান্তর করে দক্ষিণ প্রান্তে নিয়ে যেতে তিনি এই নির্দেশ দেন।

 


এই নির্দেশের পরও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুর এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করে। এক পর্যায়ে গত মাসে অনুষ্ঠিত অনুরূপ সভায় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 


এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুর-এর টনক নড়ে এবং সেতুর দক্ষিণ পাশে নিজ গাছতলায় টোল আদায়ের জন্যে স্থান নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করে এবং আগামী মাস থেকে সেখানে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে টোল আদায় করে সে ব্যবস্থাগ্রহণে কাজ শুরু করেছে।

 


এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আতিক উল্লাহ ভূঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, টোল আদায়ের স্থান পরিবর্তনের জন্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা রাখি চলতি মাসে কাজ শেষ হবে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী মাস থেকে নতুন ঠিকাদার নতুন স্থানে গিয়ে টোল আদায় করবেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সাথে উল্লেখিত বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, নির্দেশনার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাঁদপুর একটি আবেদনের মাধ্যমে কিছুদিন সময় চেয়েছিলো। এজন্যে হয়তো সময় লাগছে।

তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে সবার ভালোমন্দ বা সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব এমনিতেই আমার ওপর বর্তায়। তাই সবদিকেই নজর রাখতে হয়। ব্যক্তিগতভাবেও আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের দেয়া কথা অনুযায়ী আগামী মাস থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে।