• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ২২ দিন ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার জাল জব্দ ও ২১৮ জেলে আটক

প্রকাশ:  ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৬:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

 গত মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অভিযান। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং তা সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার এ বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৪ অক্টোবর থেকে গতকাল ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। যার প্রেক্ষিতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়সহ নদীতে সকল প্রকার মাছ আহরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ছিল যথেষ্ট তৎপর। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২১ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে নদীতে টাস্কফোর্সের টহল ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিষেধাজ্ঞা অভিযানকালীন নদীতে ঝটিকা অভিযান করেছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার), জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মেহেদী হাসানসহ নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যগণ। কঠোর অভিযান চলাকালীন থেমে থাকেনি জেলেদের মাছ ধরার অসৎ প্রবণতা। তারা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তাদের সুবিধামত সময় মাছ ধরার লক্ষ্যে নদীতে নেমেছেন আর অমান্য করেছেন সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ফলে অভিযান চলাকালীন প্রতিদিনই নদী থেকে আটক করা হয়েছে জালসহ ইলিশ, আটক হয়েছে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী অসাধু জেলে। অথচ সরকার নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে প্রদান করেছে খাদ্য সহায়তা। এতো কিছুর পরও থেমে থাকেনি তাদের মাছ ধরার অসাধু প্রবণতা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস থেকে প্রেরিত তথ্য থেকে জানা যায়, অভিযান চলাকালীন ২২ দিনে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন মাছ ঘাট, মাছের আড়ৎ, বাজারসহ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০৯.২৭৯ দৈর্ঘ্য (লাখ মিঃ) জাল আটক করেন। যার আনুমানিক মূল্য ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার অধিক। আটক করেন ১.১৪৪৫০ মেঃ টন ইলিশ। আটক করা হয় ২১৮ জন জেলেকে। যাদের সকলকেই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ২২ দিনের অভিযানে ১০৮টি মামলা দায়েরসহ ৯৭টি মোবাইল কোর্ট ও ২৮৮টি অভিযান পরিচালিত হয়।
গতকাল ২৫ অক্টোবর সোমবার ছিল মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের শেষদিন। এদিনও থেমে থাকেনি অসাধু জেলেদের মাছ ধরার লুকোচুরি খেলা। তারা এদিনও নদীতে নেমেছে আইন অমান্য করে। অভিযানের ২২ তম দিনে অর্থাৎ শেষদিনে পদ্মা-মেঘনায় অভিযান চালিয়ে ৪১ লক্ষাধিক টাকার জাল জব্দ করা হয়েছে। এদিন পদ্মা মেঘনায় ১৭টি অভিযান ও ৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযান চালিয়ে ২.০৬০ দৈর্ঘ্য (লাখ মিটার) জাল আটক করা হয়। যার মূল্য প্রায় ৪১ লাখ টাকার অধিক। এদিন চাঁদপুর সদরে ৫টি,  হাইমচর ২টি, মতলব উত্তরে ১টি, মতলব দক্ষিণ ২টি, হাজীগঞ্জে ২টি, ফরিদগঞ্জে ১টি, কচুয়া ২টি, শাহরাস্তি ২টিসহ মোট ১৭টি অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়া এদিন চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৩টি, ফরিদগঞ্জে ১টি ও মতলব উত্তরে ১টিসহ মোট ৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালীন এসব স্থান থেকে ০.০২৫০০ মেঃ টন ইলিশ জব্দ করা হয়।
ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলার আওতাধীন ৭০ কিলোমিটার নদীপথে যেন ইলিশ নিধন না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নদীপথে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২১ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সর্বাধিক পঠিত