• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে দুদিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিটাল এডুকেশন সামিট শুরু

মহামারি আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৬ মার্চ ২০২১, ১২:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউটের (এইচআরডিআই) আয়োজনে দু’ দিনব্যাপী (১৫ ও ১৬ মার্চ) ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিজিটাল এডুকেশন সামিট-আইপিইএস ২০২১’শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ মার্চ)  প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে সামিটের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক এবং আইপিইএস ২০২১-এর আহ্বায়ক ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্লেনডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক ড. মোঃ আকতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।
আইপিইএস-২০২১ একটি টিচিং লার্নিং কনফারেন্স প্রোগ্রাম, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নীতি নির্ধারকরা কোভিড পরবর্তী সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। দু’দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রয়েছে ইনোভেটিভ টিচিং লার্নিং প্র্যাকটিসেস, অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষার্থীদের অভিমত ও প্রত্যাশা, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্যানেল ডিসকাশন, কর্মশালা ইত্যাদি। এসব কর্মশালা পরিচালনা করছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ দীপু মনি বলেন, মহামারি আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে শিক্ষাখাতকে। কোভিড মহামরি ইতোমধ্যেই আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এসব শিক্ষা আমাদেরকে কোভিড পরবর্তী সময়েও কাজে লাগাতে হবে।
দীপু মনি বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়ে আমরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় ফিরে যাব। তখন কি ডিজিটাল শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে? নিশ্চয় নয়। ডিজিটাল এবং ফিজিক্যাল শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে। এই সমন্বয়কেই ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়েছে ফিজিটাল। এ ধরনের একটি সময় উপযোগী শব্দ চালু করার জন্য ড্যাফেডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করেছে। ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত হবে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে হবে। এ ধরনের সেমিনার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সাহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ফিজিটাল একটি চমৎকার ফ্রেজ বা শব্দবন্ধ। অদূর অভিষ্যতে এই শব্দবন্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। এ ধরনের শব্দবন্ধ চালু করার জন্য ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মহিবুল হাসান বলেন, মহামারি আমাদের যেমন ক্ষতি করেছে তেমনি কিছু কিছু ব্যাপারে উপকারও করছে। যেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিকার ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের চর্চা বেড়েছে। শিক্ষকদের পাঠদানে স্বচ্ছতা এসেছে। তাদের পাঠদানের ভিডিও রেকর্ড থেকে যাচ্ছে। এসব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষার্থীদেরকে শুধু জ্ঞান প্রদান করলেই চলবে না তাদেরকে জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতাও শেখাতে হবে। আমাদের এখন দরকার কর্মসংস্থান উপযোগী শিক্ষা। ড্যাফোডিলের এই সেমিনার শিক্ষাকে যুগপোযোগী করতে ভূমিকা রাখবে রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. সাজ্জাদ হোসেন তার বক্তৃতায় বলেন, শিক্ষাখাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করার জন্য ব্লেনডেড লার্নিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। অর্থাৎ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতেই হবে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে, এজন্য তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান।
ডা. সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। আমরা যদি তাঁর স্বপ্নকে পূরণ করতে চাই, অর্থাৎ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই তাহলে শিক্ষাকে অবশ্যই আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। আর এ জন্য ক্লাসরুমের শিক্ষার সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্পৃক্ত করা ছাড়া উপায় নেই।
উল্লেখ্য, দু’দিনব্যাপী এ সামিট জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ক্যাম্পাস টিভির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।