• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

মুজিব শতবর্ষে

কচুয়ায় সমালয়ে চাষ হচ্ছে নতুন উদ্ভাবনী জাতের বোরো ধান

প্রকাশ:  ০৪ মার্চ ২০২১, ০৯:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

মুজিব শতবর্ষে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কচুয়া উপজেলায় ৫০ একর জমিতে সমালয়ে বোরো ধানের নতুন জাতের হিরা-টু-হাই ব্রিড নামক উদ্ভাবনী ধানের চাষ পরীক্ষামূলকভাবে হচ্ছে। প্রকল্পের অধীন কৃষকগণকে চাষাবাদ থেকে শুরু করে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, ট্রেতে চারা, সার-বীজ-কীটনাশকের সুষম ব্যবহার, হারভেস্টার মেশিনে ঝাড়াই-মাড়াইসহ সব কিছু দিবে কৃষি বিভাগ।
    কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলায় চলতি ২০২০-২১ বোরো মৌসুমে সরকারি প্রণোদনায় কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচিটি এবারই প্রথম শুরু করা হয়েছে। এ প্রকল্পটিতে প্রতি জেলায় একটি করে উপজেলা নির্বাচন করা হয়। সে মোতাবেক চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। প্রকল্পটি কচুয়ার সহদেবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কান্দিরপাড় নামক গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত ১৯ জানুয়ারি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।
এ প্রকল্পে ১২০ জন কৃষক সুবিধাভোগীর একইস্থানে অবস্থিত সমালয়ে নতুন জাতের এ ধান চাষাবাদ করতে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ১৪ লাখ টাকা প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে। একর প্রতি ১০০ কেজি ইউরিয়া, ৪৫ কেজি ডিএপি, ৫০ কেজি এমওপি, ৪৫ কেজি জিপসাম ও ৪ কেজি দস্তার প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সকল প্রকার প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে জেলা কৃষি বিভাগ। একই সময় চারা রোপণ করায় নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধান পাকেও একই সময়। মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। এর জীবন কাল ১৪০-১৪৫ দিন। দেখতে সাধারণ বোরোর মতই।
কৃষক আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রহিম, আফাজ উদ্দিন ও খোরশেদ আলম জানান, কোনোরকম খরচ ছাড়াই গড়ে একর প্রতি ৬ থেকে ৭ মেট্ট্রিক টন নতুন এ জাতের ধানের ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সোফায়েল হোসেন বলেন, সফলভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য সমালয়ে চাষাবাদ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সমালয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারসহ বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন ও সময় সাশ্রয় সম্ভব। সুবিধাভোগীদের সকল ব্যয় প্রকল্প খাত থেকে প্রণোদনা হিসেবে সরকারের কৃষি বিভাগ প্রদান করবে। এছাড়া সমালয় পদ্ধতিতে এ অঞ্চলে বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।