• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিশিষ্ট রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অজয় কুমার ভৌমিককে হেনস্তার প্রতিবাদ

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের ক্ষোভ ও নিন্দা

প্রকাশ:  ১৫ মার্চ ২০২১, ১৩:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিভাবকতুল্য এবং বাংলাদেশ স্কাউটস্সহ বহু সংগঠনের শীর্ষ সংগঠক, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান অজয় ভৌমিককে দ্বৈত নাগরিক তথা জাতীয়তাবাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের চাঁদপুর জেলার শাখার নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার সন্ধ্যায় সংগঠন দুটির এক জরুরি বৈঠকে এমন হীনকার্যের জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হতে বর্তমান বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছিলেন, তাদের মধ্যে যে মুষ্টিমেয় ক’জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আজও বেঁচে আছেন চাঁদপুরে তাদের মধ্যে অজয় কুমার ভৌমিক অন্যতম। কিন্তু বিশ^ ঐতিহ্যের দলিল বাঙালি জাতির প্রাণের স্পন্দন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনের দিনে আমরা জানতে পারলাম, যিনি বাঙালি জাতীয়তার জন্যে সংগ্রাম করেছেন তিনিই আজ জাতীয়তাবাদ তথা দ্বৈত নাগরিকত্বের অজুহাতে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন সেই দল থেকে, যার নেতা হয়ে ’৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন হতে রাজনীতি করে আসছেন। এর চেয়ে বড় পরিহাস ও পরিতাপের বিষয় আর কী হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি এবং অসাম্প্রদায়িকতার অন্যতম ধারক ও বাহক হিসেবে সর্বদা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে আসছে। তারা কখনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে পদ বা পদবির জন্য অশুভ তৎপরতা চালায়নি। কিন্তু নিজেদের অশুভ তৎপরতাকে ঢাকতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ জেলার সর্বজনশ্রদ্ধেয় অজয় ভৌমিককে জাতীয়তাবাদের অপবাদ দিয়ে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া অনুচিত, নৈতিক ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী, যা কিনা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্যে আমরা জানতে পেরেছি। যেই বিষয়েই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হোক না কেন, অবশ্যই তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দানের প্রয়োজন ছিলো। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি জেলার সকল সৃষ্টিশীল কাজের অগ্রদূত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশনেত্রী শেখ হাসিনা সরকার বিশ্ব মহামারী কোভিড পরবর্তী সময়ে যখন দেশের অর্থনীতি পুরুদ্ধারের কাজ করছে, ধর্মীয় ও সম্প্রদায়িক উস্কানি, দুর্নীতি, অবৈধভাবে টাকা, সম্পদ আত্মসাৎ, ধর্ষণ, মাদকের প্রসার দমন করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরণের অপপ্রচার ও উস্কানি সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন তৈরি করবে, যা আমরা কখনোই এই ঐতিহাসিক দল থেকে প্রত্যাশা করি না। আমাদের মনে হয়েছে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁর মূল্যায়নের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব অজয় কুমার ভৌমিকের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম অপমানিতবোধ করছে।
পরিশেষে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলার নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করছে যে, অতি সত্বর এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অজয় কুমার ভৌমিকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা সন্তোষ চন্দ্র দাস, রাধা গোবিন্দ গোপ, পরেশ চন্দ্র মালাকার, পূজা উদ্যাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রফেসর রণজিত কুমার বণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নির্মল রায়, ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বাসুদেব মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক বিমল চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর জেলার নেতা তমাল ভৌমিক, ঐক্য পরিষদ চাঁদপুর পৌর কমিটির সভাপতি রিপন সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর দাস, পুরাণবাজার জন্মাষ্টমী পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রণব সাহা, সহ-সভাপতি রিপন দে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাজন দে রাজু প্রমুখ। এই বিবৃতির সাথে সহমত ও একাত্মতা পোষণ করেন শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখা, শারদাঞ্জলী ফোরাম চাঁদপুর জেলা শাখা, পুরাণবাজার জন্মাষ্টমী পরিষদ ও হরিবোলা সমিতি চাঁদপুর।