• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

শপথ নিলেন মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী

প্রকাশ:  ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট


 তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক খোকন থানায় দায়েরকৃত হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামী হয়েও শপথগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী হাবিবা ইসলাম সিফাত। গত ১০ জানুয়ারি সোমবার তিনি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর মামলার বিষয়টি অবগত করে দরখাস্ত করেন। কিন্তু গতকাল ১১ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান খোকন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার বিজয়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে শপথ গ্রহণ করেন।
হাবিবা ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৮ নভেম্বর সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দ্বারা বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান ও হুমকি-ধমকি প্রদান করে স্থানীয় ভোটারদের ভোট প্রদানে বিরত রাখেন আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ভোট গণনায় জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং হাবিবা ইসলামকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পরাজিত করান। উল্লেখিত বিষয়ে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল চাঁদপুরে মামলা দায়ের করেন বিজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবা ইসলাম। ১০ জানুয়ারি মামলাটি আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রধান আসামী আবু বকর সিদ্দিক খোকনকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ প্রদান করেন।
হাবিবা ইসলাম জানান, আবু বকর সিদ্দিক নির্বাচনের পর দিন ২৯ নভেম্বর সোমবার তার লোকজন নিয়ে নৌকা মার্কার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহন মোল্লাসহ বেশ ক’জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম এবং আহত করেন। ওই ঘটনায় মোহন মোল্লার স্ত্রী রুমা বেগম আবু বকর সিদ্দিক খোকনকে প্রধান আসামী করে ২১ জনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন। ওই মামলাটি চলমান রয়েছে।
মামলার আইনজীবী সেলিম মিয়া বলেন, আবু বকর সিদ্দিক খোকনের বিরুদ্ধে ৩২৬ ধারায় অভিযোগ দায়েরের পরেও জামিন না নিয়ে আসামী হয়েও তিনি মতলব উত্তর উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। তিনি আইনের চোখে অপরাধী হিসেবে গণ্য হলেও চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে শপথ গ্রহণ করেছেন।
আবু বকর সিদ্দিক খোকন এই বিষয়ে বলেন, তিনি কারণ দর্শানোর কোনো কাগজপত্র পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। নির্বাচন পরবর্তী মারামারির ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না। নৌকার প্রার্থীর সাথে অন্য প্রার্থীর মারামারির ঘটনা হয়েছে। আমাকে  উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলায় আসামী করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় কী হয়েছে এবং কীভাবে মামলা হয়েছে এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় অবগত আছেন। আইনগত বৈধতা না থাকলে প্রশাসন আমাকে শপথ করার সুযোগ দিতেন না। এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে কোনো লাভ হবে না।