• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
  • ||
  • আর্কাইভ

দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো স্বামী স্বরূপানন্দের জন্মোৎসব

আদর্শ চরিত্রের অধিকারী না হলে সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব নয়

প্রকাশ:  ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে শেষ হলো চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে অনুষ্ঠিত স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের দুদিনব্যাপী জন্মোৎসব। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশের মধ্যে দিয়ে অখণ্ডমণ্ডলেশ্বর শ্রীশ্রীস্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের দু দিনব্যাপী জন্মোৎসব শুরু হয় শহরের আদালতপাড়াস্থ স্বামী স্বরূপানন্দ পরসহংসদেবের পুন্যজন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে। গতকাল ২৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ছিলো জন্মোৎসবের শেষদিন। এদিন ভোর ৬টায় আশ্রম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় উষা কীর্তনাঞ্জলি ও হরিওঁ কীর্তন, সকাল ৮টায় নবীণ যুগের নববেদ শ্রীশ্রী অখণ্ড সংহিতা পাঠ, সাড়ে ৮টায় অখণ্ডমণ্ডলেশ্বর শ্রী শ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের শুভ আবির্ভাব দিবসের বিশেষ সমবেত উপাসনা। সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রী শ্রী মৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের প্রতিকৃতি নিয়ে হরিওঁ কীর্তন সহযোগে বের হয় নগর পরিক্রমা (সম্প্রীতি র‌্যালি)। চাঁদপুর জেলাবাসীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজারো ভক্ত, অনুরাগীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সম্প্রীতি র‌্যালিটি আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম শেষে পুনরায় আশ্রম প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। এ সময় র‌্যালিতে থাকা ভক্তবৃন্দের উচ্চস্বরে হরিওঁ কীর্তন আর উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে র‌্যালির স্থানসমূহ মুখোরিত হয়ে উঠে। ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আশ্রম প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত হয়। পরমহংসদেবের পুণ্য জন্মস্থানে তারই জন্মোৎসবে আসতে পেরে ভক্ত অনুরাগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের হরিওঁ কীর্তনে আশ্রমে ধর্মীয়ভাবাবেগ সৃষ্টি হয়। অনেকের মাঝে দেখা দেয় পিনপতন নীরবতা।
দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের বিশিষ্ট স্বরূপানন্দ সংগীত শিল্পী মানিক রায় ও সহ-শিল্পীবৃন্দের পরিচালনায় স্বরূপানন্দ সংগীতানুষ্ঠান। হরিওঁ কীর্ত্তনের মধ্যে দিয়েই দুপুর ২টায় শুরু হয় মহাপ্রসাদ বিতরণ। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মহাপ্রসাদ বিতরণের কার্যক্রম। প্রসাদ গ্রহণে ভক্তদের উপচেপড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শান্তিবাচনের মাধ্যমে দু দিনব্যাপী জন্মোৎসবের শুভ সমাপ্তি ঘটে।
দু দিনব্যাপী জন্মোৎসবের প্রথম দিন ২৬ ডিসেম্বর সোমবার দিনব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় চরিত্রগঠন আন্দোলনই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় শীর্ষক ধর্মীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর হরিবোলা সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অজয় কুমার ভৌমিক। অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটাঃ কাজী শাহাদাত, চরিত্রগঠন আন্দোলন পরিষদ চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া ও চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর।
চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দাসের সভাপ্রধানে ও চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সচিব মৃণাল কান্তি দাসের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার দে। আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠনের সহ-সভাপতি তাপস কান্তি সরকার, অর্ধেন্দু শেখর দেবনাথ, বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠন চাঁদপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক রাধেশ্যাম কুড়ি প্রমুখ।
বক্তারা চরিত্রগঠন আন্দোলনের প্রয়োজনীতা অনুভব করে বলেন, আদর্শ চরিত্রের অধিকারী না হলে সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। জাতীয় চরিত্র সংশোধন না হলে সাম্প্রদায়িকতা দূর করা যাবে না। তাই প্রতিটি মানুষকেই সৎ চরিত্রবান হতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন ন্যায় অন্যায় সস্পর্কে বিচারবোধ। ন্যায়, নীতি, আদর্শ, সততা নিয়েই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। সকল ধর্মেই সৎ মানুষ হওয়া ও মানুষের কল্যাণ সাধন করার কথা বলা হয়েছে। মানুষের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই রয়েছে ঈশ^রের সান্নিধ্যে লাভের উপায়। তাই মানুষের সেবা না করে, সৎ চরিত্রবান মানুষ না হয়ে, ঈশ^র সাধনায় সফলতা লাভ করা যায় না। যা শত বছর পূর্বে আভাস দিয়েছিলেন শ্রীশ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব। তিনি সর্বপ্রথম চাঁদপুরের ঘোড়ামারা মাঠে চরিত্রগঠন আন্দোলনের শুভ সূচনা করেছিলেন। তিনি বুঝে ছিলেন ভালো কিছু করতে হলে, সমাজে শান্তি স্থাপন করতে হলে মানুষকে আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হবে, ভিক্ষাবৃত্তি ত্যাগ করে কর্মমুখী হতে হবে। তাই তিনি অভিক্ষা নীতি প্রচার করেছেন। শিষ্য, ভক্ত অনুরাগীদের কর্মমুখী হতে প্রেরণা জুগিয়েছেন। আজ সমাজে শান্তি স্থাপন করতে হলে আমাদেরকে আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। যদি তা না হওয়া যায় তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমাদের সন্তানই অন্ধকারচ্ছন্ন জীবন লাভ করবে। বক্তাগণ স্বামী স্বরূপানন্দ প্রবর্তিত চরিত্রগঠন আন্দোলনকে চারিদিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে সেমিনারের আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং স্বামী স্বরূপানন্দ প্রণোদিত রচনাবলী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অখণ্ড সংহিতা পাঠ করেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সদস্য অরুণ কুমার ঘোষ।

সর্বাধিক পঠিত