• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
  • ||
  • আর্কাইভ

চাঁদপুরে দুদিনব্যাপী জেলা সাহিত্য মেলার উদ্বোধন

দেশবিরোধী অপতৎপরতা রুখে দিতে সাহিত্যচর্চা আমাদের সাহস জোগাবে : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

প্রকাশ:  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, বাংলা একাডেমির সমন্বয়ে ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে দুদিনব্যাপী চাঁদপুর জেলা সাহিত্য মেলা উদ্বোধন হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। এর আগে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপ্রধানে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কালচারাল অফিসার আয়াজ মাবুদ। জেলা সাহিত্য মেলায় প্রধান অতিথিসহ সকল অতিথিকে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।
দুদিনব্যাপী এই সাহিত্য মেলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ জেলার দুই শতাধিক কবি, কথাসাহিত্যিক, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, ছড়াকার, অনুবাদক, আবৃত্তিশিল্পী, সাহিত্য সংগঠক, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেন, কবি-সাহিত্যিকরা সমাজের পথপ্রদর্শক। বাংলা সাহিত্য হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে। বাংলা ভাষার সাহিত্য বাঙালি কবি-লেখকদের হাতে ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী।
তিনি বলেন, এ সাহিত্যমেলার মধ্য দিয়ে সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়বে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে দেশের ৬৪টি জেলায় সাহিত্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাঁদপুর সাহিত্য সমৃদ্ধ একটি জেলা। এ জেলায় অনেক রত্নগর্ভা সাহিত্যিকের জন্ম। এখন যারা প্রতিভাবান সাহিত্যিক রয়েছেন, তাঁরা নিজেরা সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদেরকে কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া যায় এবং মানুষের মধ্যে সাহিত্যচর্চা, সাহিত্যবোধ সৃষ্টি করা যায়-জেলা সাহিত্য মেলার এটাই উদ্দেশ্য। এই মেলা নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চার প্রতি আরো উদ্ধুদ্ধ করতে পারে। এছাড়া অনেক উদ্দেশ্য নিয়েই জেলায় জেলায় সাহিত্য মেলা করার জন্যে নির্দেশনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দুদিনব্যাপী এ সাহিত্যে মেলার সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সাহিত্যচর্চা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। দেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সাহিত্যচর্চা আমাদের সাহস জোগাবে।
তিনি বলেন, আমরা যে সমাজ গড়তে চাই, সেই সমাজবিরোধীদের চিহ্নিত করে রুখে দাঁড়াবার শক্তি-সাহস-অনুপ্রেরণাকে আমরা যেনো সাহিত্য থেকে নিতে পারি সেই সুহৃদ তৈরি করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার বায়ান্ন বছরের মধ্যে ২৮-২৯ বছর আমরা নষ্ট সময় পার করেছি। যে আশা নিয়ে আমাদের স্বাধীন দেশটা গড়ে উঠেছে, সেই উদ্দেশ্যকে ধূলিস্যাৎ করার জন্যে স্বাধীনতাবিরোধী স্বৈরশাসক অবৈধ রাজনৈতিক দল অপতৎপরতা চালিয়েছে। যাদের জন্মই অবৈধ। সেই অপশক্তি এই দেশটাকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। শান্তির দেশে কোনো অপশক্তি যেনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে তাদের চিহ্নিত করে রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিহত করতে হবে।
মেলার প্রথম দিনে চাঁদপুরের সাহিত্য বিষয়ক তিনটি প্রবন্ধ নিয়ে একটি সেমিনার, লেখকদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালা ও চাঁদপুরের শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মেলার দ্বিতীয় দিনে জেলার নির্বাচিত লেখকগণ তাদের স্বরচিত সাহিত্যকর্ম পাঠ করবেন। উদ্বোধন ও আলোচনা শেষে উপস্থিত কবি-লেখকগণ তাদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন।