• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
  • ||
  • আর্কাইভ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার

প্রকাশ:  ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান চাপ মোকাবিলায় সরকার বিস্তৃত সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি,ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এসব উদ্যোগ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে,বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনের বেশি করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে, যাতে শিল্প ও অফিস খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যায়। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে আংশিকভাবে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া অফিস সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, বিশেষ করে দিনের আলো বেশি থাকা সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে কৃত্রিম আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানো যায়। প্রয়োজন ছাড়া সরকারি দপ্তরে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার সীমিত করা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের পর আলোকসজ্জা কমানোর নির্দেশনাও আসতে পারে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে নতুন করে নির্দেশনা জারি করার কথাও ভাবা হচ্ছে। শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময়সূচি সমন্বয় এবং উচ্চ চাহিদার সময় (পিক আওয়ার) এ ব্যবহার কমানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি—বিশেষ করে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
তারা আরও জানান, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যুতের অপচয় কমবে, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সরকার আশা করছে, পরিকল্পিত এই সাশ্রয়মূলক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সীমিত জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংকট এড়ানো যাবে।