• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

বেরোবির ভিসির অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তদন্ত শুরু

প্রকাশ:  ১৫ মার্চ ২০২১, ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবির) আলোচিত উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। উপাচার্য হওয়ার পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত, লিয়াজোঁ অফিসে দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদ আঁকড়ে থাকা, আইন লঙ্ঘন করে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, জনবল নিয়োগে ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা, নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ তদন্ত শুরু করেছে ইউজিসি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি প্রতিনিধি রোববার (১৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় পরির্দশন করেছেন। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, রোববার তারা অভিযোগকারী সাত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
অভিযোগকারীর একজন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিক্ষক বেলাল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, তদন্ত দল আমাদের কাছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী কী ডকুমেন্ট আছে তা কমিটি চেয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে দিয়েছি।
কমিটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উপাচার্যের অনিয়মগুলো সুপারিশ আকারে তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাছে পেশ করবে, এটাই আমাদের দাবি।  
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের দ্বিতীয় তদন্তে যেসব অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে, এগুলোর প্রমাণ মিললে তাকে অপসারণের সুপারিশ করতে পারে কমিটি। কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য নির্দেশিত ভিসি নিয়োগের যে শর্ত তা অমান্য করে দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেছেন। সে অভিযোগেই তাকে অপসারণ করতে পারে সরকার।
২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিল ইউজিসির তদন্ত কমিটি। তারপর তাকে অপসারণ করে সরকার।  
এর আগে বেরোবির বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসির প্রথম তদন্ত দল। উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তারা। যদিও এই বিষয়টি ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে দাবি অভিযোগ উপাচার্যের।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি ভিসি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেরোবির বিশেষ প্রকল্প এবং ড. ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুর্নীতির প্রমাণ পায়। এসব প্রকল্প ঘিরে বর্তমান উপাচার্যের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইউজিসি। এ নিয়ে গঠিত দুটি আলাদা কমিটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ভিসির স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ।
এদিকে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন বেরোবির উপাচার্য ড. কলিমউল্লাহ। গত ৭ মার্চ তিনি ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে তিনি এ আবেদন করেছেন।