• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

করোনা পরিস্থিতি ও আমাদের দায়িত্ববোধ

অ্যাডঃ নাজমা আক্তার

প্রকাশ:  ০৯ মে ২০২০, ২২:৫৬ | আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ২৩:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে কাঁপছে ঘোটা বিশ^। বৈশি^ক এই মহামারীর কাছে পৃথিবীর মানুষ আজ বড় অসহায়। সকাল দুপুর সন্ধ্যা অবধি মানুষের মনে একটাই ভয় কাজ করছে। আর তা হলো প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাস। তিন অক্ষরের এই শব্দটি যেমনিভাবে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তেমনি তার অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজিত করেছে সমস্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানকে। এই প্রাণঘাতী করোনাকে প্রতিহত করার জন্যে কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা আজো আবিষ্কার হয়নি। কিছু কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা হলেও তা পুরোপুরিভাবে সফলতার মুখ দেখেনি। তাই মানুষ এই তিন অক্ষরের শব্দটির কাছে আজ বড় অসহায়। এখন এই মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের সতর্কতা, সচেতনতা এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপা ব্যতীত কোনো পথই খোলা নেই ।
সারাবিশে^র সাথে বর্তমানে বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বেড়েই চলেছে। প্রথম যেদিন বাংলাদেশে এই মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়, তারপর থেকেই দেশের সর্বস্তরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা তথা দিন-রাত প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের মনে একটাই চিন্তা বিরাজ করছে-প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। যে ভাইরাসটিতে একবার কেউ আক্রান্ত হলে তার আর কোনো নিস্তার নেই। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে, করোনায় আক্রান্ত বেশির ভাগ সেসব রোগীই মারা যাচ্ছেন। আর যারা সুস্থ হচ্ছেন তারা বিধাতার কৃপায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
যতই দিন গড়চ্ছে পৃথিবীতে ততোই করোনার ভয়াবহতা বাড়ছে। এর ব্যতিক্রম অথবা উন্নত কোনো চিকিৎসাও নেই। তাই যা হবার তা-ই হচ্ছে। এক এক করে মৃত্যুর সিরিয়ালে ঢলে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ।
এমন করুণ মৃত্যু, যা পৃথিবীর বুকে আর কখনো ঘটেনি। কারণ করোনা ভাইরাস এমন একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা খুব দ্রুত গতিতে মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কোনো লাশের পাশে মা, বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়,  স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী কেউই দাফন করতে কিংবা দাহ করতে এগিয়ে আসতে চান না। এই মৃত্যুটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু।
দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সচেতনতার জন্য হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একাত্তরের যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশে এমন কোনো নজিরবিহীন মহামারীর ঘটনা ঘটেনি। করোনা ভাইরাস সচেতনতায় বেশি অভাবগ্রস্ত হয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষ। সমস্ত কাজ-কর্ম বন্ধ থাকায় এসব নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবার বড় অসহায় হয়ে পড়ে চাপা কষ্টে দিন পার করছেন।
আমি বলছিলাম করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ববোধের কথা। পাঠক আমাদের দায়িত্ববোধটা হলো এটাই যে, মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বর্তমানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়েছেন। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই হচ্ছে আমাদের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য। বিশেষ করে সমাজে আমরা যারা বিত্তবান রয়েছি, যাদের সামর্থ্য রয়েছে, আমরা যদি এই দুর্যোগ মুহূর্তে সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়াই তাহলে হয়তো এই মহাবিপদে নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খাবারের অভাবে চাপা কষ্টে দিন পার করতে হবে না। যেমন আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এমন অনুভূতিকে বুকে লালন করেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি বা করে  যাবো। আমি মনে করি, আমার কারণে যদি কম করে হলেও দুই হাজার পরিবারও খাদ্য সহায়তা পায়, তাহলে ৫ জন বিত্তবান লোক হলে দশ হাজার লোক তাদের খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকৃত হবে।
পাড়া প্রতিবেশি কিংবা মানুষ হয়ে মানুষের খোঁজ-খবর রাখা আপনার আমার সকলেরই দায়িত্ব। আপনার নিকটতম কোনো লোক খেয়ে আছে কিনা সেটাও কিন্ত একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে আপনার-আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমার আহ্বান : আসুন, দেশের এই কঠিন মুুহূর্তে আমরা সকলে সত্যিকারের মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। অসহায় মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের ক্ষুধা নিবারণ করি। একই সাথে সবার প্রতি অনুরোধ, এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে হলে আমরা সকলে সচেতনতা অবলম্বন করি। মাস্ক ব্যবহার সহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকি। তবেই আমরা এই মহাদুর্যোগ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবো।
লেখক পরিচিতি : সমাজসেবক ; এমডি : নাজ মিউজিক সেন্টার, মিরপুর, ঢাকা।