• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • রোববার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||
  • আর্কাইভ

চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে মহাসমাধি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তাগণ মানুষকে সৎ চরিত্রবান হতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব

প্রকাশ:  ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১১:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

 চাঁদপুর শহরের পুরান আদালতপাড়াস্থ অখ-ম-লেশ্বর শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পুণ্য জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে স্বামী স্বরূপানন্দ ও তাঁর সুযোগ্য মানসকন্যা পরমপূজনীয়া মহাসন্নাসিনী শ্রীশ্রী মামণি সংহিতা দেবীর মহাসমাধি দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ২৭ এপ্রিল বুধবার আশ্রম প্রাঙ্গণে ভোর ৫টায় উষা কীর্তন, মঙ্গল শঙ্খ ধ্বনি, নবীন যুগের নববেদ শ্রীশ্রী অখ- সংহিতা থেকে পাঠ, সকাল সাড়ে ৮টায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্রীশ্রী সমবেত উপাসনা, ব্রহ্মগায়ত্রী কীর্তন, নীরব মহানাম জপযজ্ঞ, হরিওঁ কীর্তন ও বেলা ১২টায় স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডঃ রণজিত রায় চৌধুরী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সম্মিলিত অখ- সংগঠনের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সরকার।
অযাচক আশ্রম চাঁদপুর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দাসের সভাপ্রধানে ও পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি গৌতম কুমার সাহার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের চীফ রিপোর্টার বিমল চৌধুরী, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, চাঁদপুর অখ-ম-লীর সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা, সদস্য অঞ্জন কুমার দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, পৌর কাউন্সিলর ইউনুছ শোয়েব, জেলা পূজা পরিষদ নেতা রণজিত সাহা মুন্না, জুয়েল কান্তি নন্দু, গৌতম কুমার ঘোষ, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের মনতোষ সাহা, সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, বিপুল ভৌমিক, মৃদুল কান্তি দাস, প্রণব সাহা, সুকুমার রায়, প্রিয়লাল ত্রিপুরা, টিটু দাস, উৎপল দাস, সমীর দাস প্রমুখ।
সভায় বক্তাগণ স্বামী স্বরূপানন্দের উপর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, এ পুণ্যস্থানে জন্ম নিয়েছিলেন স্বামী স্বরূপানন্দ। যিনি আজ অজ¯্র মানুষের মুক্তিদাতা হিসেবে পৃথিবীতে ব্যাপক পরিচিত। যাঁর জন্মস্থান হিসেবে চাঁদপুর গর্বিত। মহান সাধক, আলোর দিশারী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব মানুষকে সৎ পথের সন্ধান দিয়েছেন ও প্রেরণা জুগিয়েছেন সৎ থাকতে, সৎপথে চলতে। তিনিই চরিত্র গঠন আন্দোলনের শুভ সূচনা করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সৎ চরিত্রবান মানুষ না থাকলে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি কর্মে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে সকলকে অভিক্ষা মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। আজ আমরা গর্ব করে বলতে পারি, স্বামী স্বরূপানন্দের আদর্শে দীক্ষিতরা সকলেই অভিক্ষা নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। স্বামীজির নীতিগত আদর্শ যদি আমরা মেনে চলতে পারি, তাহলে আমাদের মাঝ থেকে হানাহানি মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হবে। পৃথিবীতে শান্তি স্থাপিত হবে।
বক্তাগণ বাবামণির আশীর্বাদে সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় ধ্যান মন্দির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে বলে সকলকে অবহিত করেন। আলোচনা পূর্বে অখ- সংহিতা গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন বাবামণির ভক্ত অরুণ কুমার ঘোষ। আলোচনা শেষে দুপুর ২টায় শান্তি বাচনের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বরূপানন্দ ভক্ত, শিষ্য অনুরাগীসহ সুধীজনদের ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। তাদের উপস্থিতি ও হরিওঁ কীর্তনে আশ্রমস্থল মুখরিত হয়ে উঠে।
চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, চাঁদপুর অযাচক বোর্ড অব ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত অখ- সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

সর্বাধিক পঠিত