• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
  • ||
  • আর্কাইভ

সাংবাদিকতায় মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া

প্রকাশ:  ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১১
স্টাফ রিপোর্টার
প্রিন্ট

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলে কোনো বাধাই শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—এ কথারই বাস্তব প্রতিফলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক সাফল্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তার এই অর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজে আনন্দের বন্যা বইছে।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই অর্জন কেবল একটি একাডেমিক ফলাফল নয়; এটি এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে সবকিছু সম্পন্ন করা—এসবই তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। মাঠপর্যায়ে কাজের চাপ, সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময়ই ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষাজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করেই তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছেন।
নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বয়সে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে বসে পড়াশোনা করা সহজ ছিল না। সুদূর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে ক্লাস করা আমাদের জন্য সত্যিই কষ্টকর ছিল। প্রতিটি ক্লাসের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো, অনেক সময় ক্লান্তি ভর করতো। তবুও শেখার আগ্রহই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়েছে।
তার এই বক্তব্যে উঠে আসে একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তব চিত্র। ভোরে রওনা দিয়ে রাজধানীতে ক্লাস করা, আবার রাতে ফিরে যাওয়া—এই চক্রের মধ্যেই কেটেছে তার শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। তাই নিজেকে দক্ষ ও আপডেট রাখতে পড়াশোনার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিআইবির এই কোর্সটি তাকে সাংবাদিকতার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। সংবাদ লেখার কৌশল, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা, ডিজিটাল সাংবাদিকতা—এসব বিষয়ে তিনি নতুন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অবদান গভীরভাবে স্মরণ করেছেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক পঙ্কজ কর্মকার, মুনিরা শারমিন, শুভ কর্মকার, লাজিনা জাসলিনসহ প্রেস ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষককে। তাদের দিকনির্দেশনা, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন শিক্ষকদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা তাকে প্রতিটি ধাপে সাহস জুগিয়েছে। কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের আন্তরিক আচরণ তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
শিক্ষাজীবনের এই পথচলায় সহপাঠীদের ভূমিকাও কম নয়। নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করেছি, একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। বিশেষভাবে প্রিয় সহপাঠী উজ্জ্বল হোসাইন ও মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের কথা উল্লেখ করতে চাই, যারা সবসময় পাশে ছিল। তিনি জানান, ক্লাসরুমের আলোচনা, গ্রুপ স্টাডি, পরীক্ষা প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই সাফল্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার এই অর্জনকে পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া সবসময় নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার এই একাডেমিক সাফল্য প্রমাণ করে, তিনি নিজেকে আরও উন্নত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে পরিবারের সহযোগিতা তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাদের সমর্থন না থাকলে এই পথচলা এত সহজ হতো না। এই অর্জন তার পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এই কোর্স আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এখন আমি আরও দায়িত্বশীলভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করতে পারবো। তিনি ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তৈরিতে আরও মনোযোগী হতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তরুণ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। পেশার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে, সত্যের প্রতি অটল থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বপূর্ণ পেশা, যেখানে সততা, নৈতিকতা এবং সাহসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কর্মজীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং দূরপাল্লার যাত্রার ক্লান্তি—সবকিছু অতিক্রম করে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি গর্বের বিষয়। বিশেষ করে যারা কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই গল্প একটি শক্ত প্রেরণা হয়ে থাকবে। স্বপ্ন দেখুন, পরিশ্রম করুন—সাফল্য আসবেই—এই বিশ্বাসকেই নতুন করে দৃঢ় করেছে তার এই অর্জন।