• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১
  • ||
  • আর্কাইভ

নারীদের আত্মোপলব্ধি

প্রকাশ:  ১৩ জুলাই ২০২৩, ১৩:২৭ | আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩, ০৮:২৪
নাছরিন আক্তার
প্রিন্ট

আমি নারী, তবে সব পারি না...। বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে বহুল প্রচলিত স্লোগান, আমি নারী, সব পারি। নারীকে সব পারতে হয় না। মাঝে মাঝে না পারাটা হচ্ছে তার জন্যে শুভ কামনা। নারীর জন্ম সার্থক, যখন সে না বলাটা সঠিকভাবে শিখে যাবে। আমি কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, আবার কারো মা হতে হতে ভুলে যাই আমি যে সবার প্রথমে একজন নারী। সবার জন্যে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিজের যুদ্ধটা মাথায়ই আসলো না। কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে আমি যদি একদিন একটু বেশি ঘুমালাম, একদিন না হয় রান্নাটা করলাম না বা সব বাদে এক আয়নাতে সামনে নিজেকে একটু বেশি রাখলাম। এক দিনের ছুটিতো আমারও দাবি হতে পারে। আমারও ইচ্ছে হয় গোলাপি শাড়ি পরে খোলা আকাশের নিচে স্নিগ্ধ সুরের কোনো গান শুনতে শুনতে এককাপ চা হাতে নিয়ে বসি। আমার জীবনের একটা দিন আমার হোক। আজ আমার শরীর খারাপ বলে অজুহাত দিচ্ছি, শুধু বলছি আমারও যত্ন দরকার। কেন শুধু আমি মা সবার শেষে ঘুমিয়ে সকলের আগে উঠবো?

সারাদিন বাসায় বসে করো কী? আসলেই কিছুই করি না। শুধুমাত্র সকালে সবার আগে ঘুম থেকে উঠে, রাতের কিছু কাজ সামলিয়ে বাচ্চা স্কুলে যাবে সেই চিন্তা, স্বামী তার কর্মক্ষেত্রে যাবে তার সকালের খাবারটা গুছাতে হবে। তাতে কি, আমি একজন কর্মজীবী মা, তারপরও তো রান্নাটা আমারই করতে হবে। দিন শেষের সময়টা তো আমারই না। আমি নারী, পারতে আমাকে হবেই।

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

আমরা নারীরা ক্ষমতা কখনো চাই না, সমতা পেলেই আমরা খুশি। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে নারী ও পুরুষের হাত ধরেই পৃথিবী সভ্যতার পথে এগিয়ে চলেছে। সভ্যতার এ অগ্রযাত্রায় মানব জাতির উভয় অংশের অবদানই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত, অবহেলিত ও নির্যাতিত হয়ে আসছে। এ বৈষম্যের অবসান হওয়া প্রয়োজন। কেননা নারী ও পুরুষ উভয়ই মানুষ, এ দুই সত্তার মাঝে যে কারো অধিকার খর্ব হলে ব্যাহত হবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি। মানুষ তার মেধা আর কায়িক পরিশ্রম দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে বর্তমান সভ্যতার তিলোত্তমা রূপ। এ নির্মাণ অভিযাত্রার নৈপথ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সভ্যতার বেদীমূলে পুরুষের পরিশ্রমের আর সংগ্রামের চিহ্ন খোদিত হলে তার সাথে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে নারীর সেবা আর কর্তব্যনিষ্ঠাও। সভ্যতাকে সাজাতে-গোছাতে পুরুষ দিয়েছে শ্রম, আর তাতে সর্বদা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে নারী। সব যুগের সব দেশের মানুষের জন্যে এ কথা সত্য। এখানে তাই স্বেচ্ছাচারিতার কোনো সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও নারীদের অবদানকে অগ্রাহ্য করলে তা সামাজিক ভারসাম্যকে নষ্ট করবে। এমন অবস্থা কখনোই কাম্য হতে পারে না। পৃথিবীর সকল সভ্য সমাজ তাই নারীদের এ বিরাট ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েই উন্নয়নের পথে পা বাড়িয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নর এবং নারী একে অপরের পরিপূরক। মানব কল্যাণের পথে তাই নারী-পুরুষ উভয়কেই অগ্রসর হতে হবে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আর অনুভূতির মধ্য দিয়ে।

লেখক : নাছরিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, উদয়ন শিশু বিদ্যালয়, চাঁদপুর।

সর্বাধিক পঠিত