• পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
  • সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
  • ||
  • আর্কাইভ

ঝুঁকি বাড়াচ্ছে উপসর্গহীন রোগী

প্রকাশ:  ১৫ মে ২০২০, ০৩:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদান করেছেন তৌফিক আহমেদ। যোগদানের আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসায় তার করোনা টেস্ট করতে বলে কর্তৃপক্ষ। কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকলেও সচেতনতাবশত তিনি টেস্ট করান। টেস্টের ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ এসেছে।

এরকম শুধু একজন রোগী নন, প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে উপসর্গহীন রোগী। রোগের বাহক নিজের অজান্তেই ছড়িয়ে দিচ্ছে করোনাভাইরাস। বর্তমানে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এরকম উপসর্গহীন রোগী।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ওয়ার্ড, কেবিন ও করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সাতজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজনের জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন পড়লে বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে করোনা টেস্ট করেন চিকিৎসকরা।

 

প্রতিবেদনে দেখা যায় তারা করোনা পজিটিভ। তাদের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। গতকাল ওই হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ ২৯ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। উপসর্গহীন রোগীদের নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে হাসপাতালগুলো। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীদের  সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। শুধু এই হাসপাতাল নয়, করোনা পজিটিভ উপসর্গহীন রোগী শনাক্ত হচ্ছে সারা দেশেই। দেশজুড়ে এখন যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর-ফেরত। নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এসব আক্রান্ত এলাকা থেকে অন্য জায়গায় গেলে নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করছে। এদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। অধিকাংশ রোগী পাওয়া যাচ্ছে উপসর্গহীন। উপসর্গ ছাড়াই রোগটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ায় এ মুহূর্তে ঠিক কতজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। উপসর্গহীন রোগীর কারণে বাড়ছে উদ্বেগ। তাই দ্রুত রোগী শনাক্তে টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে জোর দিয়েছে সরকার। গত কয়েকদিন ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরা। গত ২২ এপ্রিল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তার শরীরে কোনো লক্ষণই ছিল না। গাজীপুর থেকে সিলেট আসার কারণে সতকর্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তার নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতেই করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কর্মরত স্টোরকিপার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের কোনো উপসর্গই ছিল না তার। উপসর্গ না থাকা অবস্থায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলছেন, এমনটা হলে বোঝার সাধ্য নেই কে আক্রান্ত আর কে নয়। উপসর্গহীন ব্যক্তি সবার মাঝে ঘুরে বেড়ালেও কেউ সাবধান হতে পারবেন না। ফলে আরও অনেকের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও কারও করোনা পজিটিভ হতে পারে। সবার মধ্যে উপসর্গ থাকবে, এমন নয়। ৫০-৮০ ভাগ লোকের উপসর্গ থাকে না। তারা কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসা ছাড়াই শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে ভাইরাস প্রতিহত করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার একটি গ্রামে ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরে একটি পরিবার। তাদের করোনার উপসর্গ ছিল না। তাদের ছয় মাসের বাচ্চাসহ তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তিনজনেরই করোনা পজিটিভ প্রতিবেদন এসেছে। হবিগঞ্জে আক্রান্ত ১১ জন রোগী পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘উপসর্গহীন রোগী নিয়ে এখন ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে উপসর্গ না থাকলেও আইসোলেশনে থাকতে হবে। নয়তো তার কাছ থেকে প্রথমে তার পরিবার এরপর আশপাশের মানুষ আক্রান্ত হবে।’